মার্কিন সিনেট ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে
অনুপম নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মে ২০২৬, ১০:৪২:৫৫ অপরাহ্ন
অনুপম আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধ থামাতে ডেমোক্র্যাটদের আনা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন সিনেট। এতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই চলতে থাকা সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে আইনি সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা নিয়ে আরও জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন।
বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান সংবাদ সাময়িকী টাইম বলছে, ইরানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সীমিত করার লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। গুরুত্বপূর্ণ আইনি সময়সীমার মাত্র একদিন আগে এই ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ খারিজ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রক্রিয়াগত এই ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ভোটে হেরে যায়। রিপাবলিকানদের মধ্যে কেবল মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র্যান্ড পল দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল কলিন্সের প্রথম সমর্থনমূলক ভোট, ফলে তিনি এই ইস্যুতে প্রথম রিপাবলিকান সমর্থক হন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট, যিনি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
১ মে’র এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি সময়সীমার ঠিক আগে এই ভোটাভুটি হয়। ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই রেজোলিউশন অনুযায়ী, কোনও প্রেসিডেন্ট যদি যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন করেন, তবে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে, না হলে সেই অভিযান বন্ধ করতে হবে।
এই আইনে আরও বলা আছে, প্রয়োজনে একবার ৩০ দিনের বাড়তি সময় নেয়া যেতে পারে, তবে তার জন্য প্রেসিডেন্টকে জানাতে হবে যে নিরাপদে সেনা প্রত্যাহারের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
ট্রাম্প প্রশাসন গত ২ মার্চ কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানে সামরিক অভিযান সম্পর্কে অবহিত করে, যার ফলে এই ৬০ দিনের সময়সীমা শুক্রবার শেষ হচ্ছে। কংগ্রেসের অনুমোদন বা প্রত্যাহারের ঘোষণা ছাড়া এর পরও অভিযান চালানো হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনপ্রণেতা।
সিনেটর সুসান কলিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্তে কংগ্রেসকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ দিয়েছে সংবিধান এবং ওয়ার পাওয়ারস আইন ৬০ দিনের একটি স্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এটি কোনও পরামর্শ নয়, এটি বাধ্যতামূলক শর্ত।’
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জন্য ‘স্পষ্ট লক্ষ্য, অর্জনযোগ্য উদ্দেশ্য এবং সংঘাত শেষ করার কৌশল’ থাকতে হবে। এসব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে তিনি নন।
তবে সিনেটের এই ভোট দেখিয়েছে, আইনপ্রণেতারা এখনও সরাসরি এমন পদক্ষেপ নিতে অনাগ্রহী। গত দুই মাসে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনকে যুদ্ধ থামাতে বা কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে একাধিক ভোটাভুটি করেছেন। কিন্তু ছয়টি প্রস্তাবই ব্যর্থ হয়েছে, যা বিশেষ করে রিপাবলিকানদের মধ্যে নিজেদের দলের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন ⤵
এদিকে সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় ক্যাপিটল হিলে আলোচনা কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করা কয়েকজন রিপাবলিকান ৬০ দিনের সময়সীমাকে আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন এবং প্রশাসনের কাছ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্যাখ্যা আশা করছেন।
ওকলাহোমার সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বলেন, ‘এটাই আইন’। উত্তর ক্যারোলিনার সিনেটর থম টিলিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দীর্ঘমেয়াদে ইরানে সম্পৃক্ত থাকতে চায়, তবে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেয়া উচিত। তবে এসব উদ্বেগ এখনও ডেমোক্র্যাটদের আনা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থনে রূপ নেয়নি।
অনেক রিপাবলিকান এই প্রস্তাবকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক বা বাস্তব সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কিছু আইনপ্রণেতা বিকল্প হিসেবে সীমিত অনুমোদন বা স্থলবাহিনী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মতো প্রস্তাব বিবেচনার কথা বলেছেন।
আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রশাসন ৩০ দিনের অতিরিক্ত সময় নেয়ার বিধান ব্যবহার করে আরও সময় নিতে পারে।



