‘তব তবি তব তব তবা লি’ ভাইরাল গানের পেছনের ইতিহাস (ভিডিও)
অনুপম নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম প্রকাশিত হয়েছে : ০১ এপ্রিল ২০২৫, ২:১৩:৫৩ অপরাহ্ন
অনুপম সাহিত্য ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয় ‘তব তবি তব তব তবা লি’ নামের একটি গান। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেন কিন্তু এই গান শুনেননি— এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া গানটি সবার মাঝে জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে। হোক সেটা মজার ছলে।
সকল সামাজিক মাধ্যমেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে এই গান। ব্যবহারকারীরা এই গান দিয়ে মিম তৈরি থেকে শুরু করে মুখস্থ করে গাওয়ার ভিডিও, সবকিছুরই অনুশীলন করছেন। যদিও মনে হতে পারে গানটি খুব অর্থহীন এবং এর কোনো ঐতিহাসিক পটভূমিও নেই।
হয়তো কোনো এক অলস মস্তিষ্ক থেকে বের হয়ে এসেছে এই গান— এমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তবে এই অর্থহীন গানের পিছনে রয়েছে বুদ্ধি ও প্রতিভার অবাক করা গল্প। তবে এটি গান হিসেবে ভাইরাল হলেও এর উৎপত্তি হয়েছে কবিতা হিসেবে। বিখ্যাত এই কবিতার আসল নাম ‘সাওতু সাফিরি বুলবুলি’ বা ‘বুলবুলির কিচিরমিচির’। আর এর কবির নাম আল আসমাই।
পৃথিবী জুড়ে গানটির খ্যাতি নতুন হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায়শই গাওয়া হয় এবং ছোট বাচ্চাদের শিখানো হয় এটি। কিন্তু কিভাবে উৎপত্তি হয়েছে এই কবিতার, তা জানতে হলে যেতে হবে ১২০০ বছর আগে আব্বাসীয় যুগে। বাগদাদে তখন দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের সভা চলে।
খলিফা আল মনসুর কবিতার প্রচণ্ড ভক্ত ছিলেন এবং তার স্মৃতিশক্তি এতোই ভালো ছিলো যে তিনি যেকোনো কবিতা শুধু একবার শুনেই মুখস্থ বলতে পারতেন।
তিনি তার সারা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন কবিদের দরবারে নিমন্ত্রণ করে বলতেন যে যদি তারা এমন কোনো কবিতা তাকে শুনাতে পারে যা তিনি আগে কখনো শোনেননি, তাহলে সেই কবিকে যেই পাথরের খণ্ডের ওপর কবিতা লেখা হয়েছে তার সমান ওজনের স্বর্ণ পুরস্কার প্রদান করা হবে।
এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে কবিরা অনেক পরিশ্রম করে কবিতা লিখার পর তার সামনে এসে কবিতা আবৃত্তি করলে তিনি বলতেন যে এই কবিতাটি তিনি আগে শুনেছেন।
যখন কবিরা জানাতো যে এটি তাদের মৌলিক কবিতা তখন তিনি কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনাতেন এবং বলতেন যে আগে থেকে না জানলে কিভাবে তিনি কবিতাটি বলতে পারলেন। এভাবে অনেক কবিই তার দরবার থেকে খালি হাতে ফিরে যায়।
তবে এক সময় কবি আল আসমাই খলিফার এই কাণ্ডের কথা শুনতে পান এবং তিনি বুঝে ফেলেন খলিফার কৌশল। তিনি খলিফার দরবারে গিয়ে জানান যে তিনি এমন একটি কবিতা লিখতে পারবেন যে খলিফা আগে কখনো শুনেননি। খলিফা তাকে বলেন এমন কবিতা লিখতে পারলে যেই পাথরের ওপর কবিতা লেখা হবে তার সমান ওজনের স্বর্ণ তাকে প্রদান করা হবে।
তখন কবি আল আসমাই বুলবুলির কিচিরমিচির নামের এই কবিতাটি লিখেন। খুব অদ্ভুত বাক্য প্রণালি ও অর্থহীন শব্দ ব্যবহার করে কবিতাটি লিখা হয়। পরের দিন আল আসমাই খলিফাকে কবিতাটি শুনালে প্রথমবারের মতন খলিফা একবার শুনে কবিতাটি বলতে পারেননি।
খলিফা তখন নির্দেশ দেন যে পাথরের ওপর কবিতাটি লেখা হয়েছে সেই পাথরটি নিয়ে আসতে। কিন্তু আল আসমাই জানান যে তা তিনি একটি ভূপতিত পাথরের স্তম্ভে কবিতাটি লিখেছেন, যা কাঁধে নিতে ছয়জন শক্তসমর্থ সৈনিকের প্রয়োজন।
খলিফা যখন বুঝতে পারলেন যে আল আসমাইকে এতো স্বর্ণ দিতে হলে তার কোষাগার খালি হয়ে যাবে। তখন আল-আসমাই বললেন, তার স্বর্ণের দরকার নেই, কিন্তু যেসব কবিরা আগে খালি হাতে ফিরে গেছে তাদের যেন তাদের প্রাপ্য স্বর্ণ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে খলিফা যেন এভাবে আর কোনো কবিকে না ঠকায়।
আরেকটি সূত্র থেকে জানা যায়, খলিফা প্রথম থেকেই জানিয়ে রাখতেন যে এমন কবিতা লিখতে হবে, যা তিনি একবার শুনেই মুখস্থ করতে পারবেন না এবং তা করতে পারলে যার ওপর কবিতাটি লেখা হবে তার সমওজনের স্বর্ণ দেওয়া হবে কবিকে। তখন আল আসমাই তার এই কবিতাটি লিখেন।
যখন আল মনসুর কবিতাটি মুখস্থ করতে পারেননি তখন তিনি কবিতাটি কোথায় লেখা হয়েছে তা জানতে চান এবং যখন দেখেন যে কবিতাটি আল আসমাইয়ের গাধার ওপর লেখা হয়েছে, তখন তিনি প্রচণ্ড বিস্মিত হন।
কিন্তু তাও তিনি এমন কবিতা লেখার জন্য আল আসমাইয়ের প্রতিভায় খুশি হন। তাই তিনি আল আসমাইকে তার গাধার ওজনের সমান স্বর্ণ প্রদান করেন।
নিচের ভিডিওতে গানটির ৫৯ সেকেণ্ডের মাথায় শুরু হয় তব তবি তব তব তবা লি—