যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী, এমপিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন
অনুপম নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ মার্চ ২০২২, ১১:৪১:৪৯ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।
লন্ডন অফিস : ব্রিটিশ মন্ত্রী ও সিনিয়র সংসদ সদস্যরা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১তম বার্ষিকী ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পাশে ওয়েস্টমিনস্টারে লন্ডনের মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যু মেথডিস্ট চার্চ কনভেনশন সেন্টারের গ্রেট হলে এর আয়োজন করেন সোমবার যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম।
কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান ও মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী আরটি অলিভার ডাউডেন এমপি
দেশটির কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান ও মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী আরটি অলিভার ডাউডেন এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, জাতিসংঘ এবং কমনওয়েলথ বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড তারিক আহমেদ ছিলেন সম্মানিত অতিথি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেরেমি কুইন এমপি এবং লন্ডন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা, ভোক্তা ও শ্রম বাজারের মন্ত্রী পল স্কুলি এমপি।
শ্যাডো ফরেন সেক্রেটারি ডেভিড ল্যামি এমপি, লেবার পার্টির নেতা স্যাম টেরি এমপি এবং স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ফয়সল চৌধুরী এমএসপি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
লর্ড তারিক আহমেদ
এছাড়া, কমনওয়েলথ মহাসচিব আরটি প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি-জেনারেল কিট্যাক লিম, হাই কমিশনার এবং ৫০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রদূতসহ বহু সংখ্যক ক্রস-পার্টি এমপি, যুক্তরাজ্যে ভারতের হাইকমিশনার গায়ত্রী ইসার কুমার, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশ প্রবাসী বিশিষ্ট সদস্যরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ১৯৭২ সালের 8 জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রথম লন্ডন সফর এবং কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী স্যার এডওয়ার্ড হিথের সাথে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করে অলিভার ডাউডেন এমপি বলেন, “১০ নম্বরের ঐতিহাসিক বৈঠকটি শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে একটি শক্তিশালী প্রতীকি বৈঠক ছিল না, বরং এটি যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি গভীর এবং স্থায়ী অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। সময়ের সাথে সাথে, আমরা বাংলাদেশের সাথে একটি সুদৃঢ় বন্ধন স্থাপন করেছি।’’
অলিভার ডাউডেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ এখন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মূল্যবোধভিত্তিক একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের বাস্তবায়ন দেখছে। এই উজ্জ্বল এবং আরও সমৃদ্ধ ভবিষত্যের পথে অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাথে একত্রে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় যুক্তরাজ্যের এফসিডিও মন্ত্রী লর্ড তারিক আহমাদ বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে একটি স্বনির্ভর, ধর্মনিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এমন একজন নেত্রী যিনি গণতন্ত্রের পক্ষে এবং যারা কমিউনিটির মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায় তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তিনি একজন আদর্শবান রাজনীতিক।’’
স্যার এডওয়ার্ড হিথের সাথে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে লর্ড আহমাদ বলেন, “বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক তখন থেকেই দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে যা ভবিষ্যতে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির সম্পর্ক আরও গভীর হবে।”
জাতির পিতা ও একাত্তরের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “একান্ন বছর আগে বঙ্গবন্ধু গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার জন্য তাঁকে স্যার এডওয়ার্ড হিথ ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নজীরবিহীন অর্ভ্যথনা জানান। এরপর যুক্তরাজ্যই প্রথম ইউরোপীয় দেশ যা বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়। বঙ্গবন্ধুর অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে ৫১ বছর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এশিয়ার দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিতে উন্নীত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ভিত্তিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য সবসময় পাশে থাকবে বলেই আমরা আশা করি।”
বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেরেমি কুইন এমপি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিব একজন অসাধারণ নেতা ছিলেন। তাঁর আদর্শ ও স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ স্বাধীন বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করছেন।”
মন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাজ্য বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত সামুদ্রিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ বাস্তবায়নে সহযোগিতা জোড়দার করবে।
পল স্কালি এমপি তাঁর বক্তৃতায় যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন অবদানের, বিশেষ করে কোভিড মহামারীর সময়ে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অসাধারণ জনহিতকর কাজের প্রশংসা করেন।
শ্যাডো পররাষ্ট্র সেক্রেটারি ডেভিড ল্যামি এমপি বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে জলবায়ূ সমস্যা মোকাবিলায় সফল নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারের প্রতি লেবার পার্টির সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন: “একজন শ্যাডো পররাষ্ট্র সচিব হিসাবে আমি বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের সাথে কাজ করে যাবো।”
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো যুক্তরাজ্যের সাথে বঙ্গবন্ধুর বিশেষ সম্পর্কের প্রতি নিবেদিত ‘বঙ্গবন্ধু এবং ব্রিটেন’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়নের ওপর তথ্যচিত্র এবং সংস্কৃতি সচিব মোঃ আবুল মনসুরের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে আগত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।



